জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ইদানীং নতুন গল্প শুনছি– এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে। যদি কেউ ভোট গণনা করতে দেরি হবে– এ উছিলায় সুযোগ নিতে চায়, আপনাদের তা প্রতিরোধ করতে হবে। এই দেশের মানুষ এক যুগ ভোট দিতে পারেনি। তবে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা যে তাদের নেই, তা না। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ভোট দিয়েছে। ভোট
গণনা করতে কেমন সময় লাগে, দেশের মানুষের সে ধারণা আছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভা পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে পড়ে।
খুলনার নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে আসেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটায় মঞ্চে ওঠেন তিনি। ২টা ৩৭ মিনিটে শুরু করে ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, তারা এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনের কাছে পাঠাচ্ছে এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর নেওয়ার জন্য। তারা নাকি সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। আপনাদের এই প্রস্তাবটাই তো সবচেয়ে অসৎ প্রস্তাব। আপনারা অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে কীভাবে মনে করেন যে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবেন?
তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল বলে আপনারা জাতির সামনে মিথ্যা কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা এখন মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারে তারা নির্বাচনের পর কী পরিমাণ মিথ্যা কথা বলবে, এটা সহজেই অনুমেয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে আবার ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর কিছু পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল যাতে বিদেশে পাঠানো যায়, সে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চিনি কারখানাগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
জিয়াউর রহমান যশোরের উলাসী খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমি নিজেও খাল কাটতে আসব। সেখানে সবাইকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি। এ ছাড়া যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রকল্প আবার সচল করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে পরিষ্কারভাবে কর্মজীবী মা-বোনদের প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কলঙ্কজনক। কর্মজীবী নারীদের অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে দলগুলো রাজনীতি করছে তারা জনগণের মান-মর্যাদা-সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে কথা বলবে এবং রাজনীতি করবে। তবে আমরা খেয়াল করলাম একটি রাজনৈতিক দল এই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী মা-বোনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে শুরু করেছে।
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান এর প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা ব্যাখ্যা করেন। দেশের প্রচুর শিক্ষিত বেকারের কথা উল্লেখ করে তাদের কর্মসংস্থান তৈরিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের জয়ী করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
‘আইডি হ্যাক হয়নি, তারা মিথ্যাবাদী’
খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলের একটি পোস্টে নারীর বিষয়ে করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এভাবে মিথ্যা কথা বলছে। দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে। আইডি হ্যাক হয়নি। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের কাছে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে। এদের পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।’
গতকাল বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে এই জনসভা শুরু হয়। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে খুলনা আসার আগেই জনসভার মাঠ ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ২২ বছর পরে তারেক রহমানকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সবাই।
জনসভায় প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক নারীগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। ওই রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মানিত করেছেন।’
তারেক রহমান বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা ছিল একসময় শিল্পনগরী। গ্যাস ও বিভিন্ন কারণে আজ শিল্পনগরী মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই মৃত শিল্পনগরীকে আবার জীবিত শিল্পনগরীতে পরিণত করতে চাই। যাতে সেসব শিল্পে শুধু পুরুষ নয়, নারীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বিপুল নারী জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব না, সেজন্যই আমরা বলেছি বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রত্যেকটি গৃহিণী মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব; যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারীসমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। একইভাবে কৃষক ভাইদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ পেতে সুবিধা হবে, প্রয়োজনে কীটনাশক, বীজ, সার পৌঁছে দেব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সুদসহ তা মওকুফ করব।’
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন রকিবুল ইসলাম বকুল, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুল মোনায়েম মুন্না, আলী আজগর লবী, আমীর এজাজ খান, মনিরুল হাসান বাপ্পী, মনিরুজ্জামান মনি, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ।
Posted ৭:৪৯ এএম | মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।