জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 131 বার পঠিত

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপতথ্যের ধরন ও মাত্রা দ্রুত বদলাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর বিষয়বস্তু জটিল ও পরিকল্পিত রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক জোট, আসন ভাগাভাগি, প্রার্থী মনোনয়ন, জরিপ এবং প্রচার কার্যক্রম ঘিরে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিস ল্যাবের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য যাচাইকারী সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে নির্বাচন-সম্পর্কিত অপতথ্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯টিতে। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৩। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে অপতথ্য প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে তথ্য যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশের হারও দ্রুত বেড়েছে। প্রথম সপ্তাহে যেখানে ১০টি প্রতিবেদন পাওয়া যায়, শেষ সপ্তাহে তা দাঁড়ায় ৩১টিতে।
নির্বাচন হবে কিনা– এ নিয়ে বিভ্রান্তি
এই সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অপতথ্যের একটি ‘আদৌ ভোট হবে কিনা’– এমন সন্দেহ সৃষ্টির প্রচেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে ভুয়া বক্তব্য ছড়িয়ে দাবি করা হয়, তিনি নাকি বলেছেন ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হবে না, তিনি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। একইভাবে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ নির্বাচনের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন– এমন দাবিও ছড়ানো হয়। তথ্য যাচাইয়ে এসব দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে অপতথ্য
অপতথ্যের বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঘিরে। ছড়ানো হয়েছে– জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নাকি বলেছেন, মাওলানা মামুনুল হকই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। আবার দাবি করা হয়, জোটে যুক্ত হওয়ার সুবিধার্থে মামুনুল হককে হেফাজতে ইসলামের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) নেতাদের নিয়েও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়। দাবি করা হয়, জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে দলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ পদত্যাগ করবেন কিংবা সদস্য সচিব আখতার হোসেন ‘সহযোগীর কলঙ্ক’ নিতে রাজি নন। বাস্তবে তাদের কেউই এমন বক্তব্য দেননি।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নিয়েও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ছবিকার্ড ছড়িয়ে বলা হয়, বিএনপি নাকি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা বাতিল করেছে। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দলটি চারটি আসনে নির্বাচন করছে।
প্রার্থী ও মনোনয়ন ঘিরে গুজব
মনোনয়ন ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও নানা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। ঢাকা-৮ আসনে এক সম্ভাব্য প্রার্থী নিহত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে দাবি ওঠে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতা সেখানে প্রার্থী হচ্ছেন। জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে– এমন দাবিও ছড়ানো হয়, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভুয়া প্রচারণা
নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও ও ছবির ব্যবহার বেশ বেড়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতার স্ত্রীকে দিয়ে ভোট চাওয়ার ভুয়া ভিডিও কিংবা সেনা কর্মকর্তা বেশে একটি দলের পক্ষে ভোট প্রার্থনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাচাইয়ে দেখা যায়, এসব ভিডিও কৃত্রিমভাবে তৈরি।
ভুয়া বক্তব্য ও জরিপ
এক মাসে অন্তত ৪৩টি অপতথ্যে রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি উপদেষ্টাদের নামে ভুয়া বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের নামে ভুয়া জরিপ ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সময় অপতথ্য শুধু বিভ্রান্তিই নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরও আঘাত হানে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং নাগরিক সচেতনতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
Posted ৫:৫৫ পিএম | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।