জাতীয় ডেস্ক | বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 52 বার পঠিত

সংসদ নির্বাচনের মাঠে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়েছে দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। ভোটের আগে ও পরে ১০ দিন করে সেনা মোতায়েন রাখার দাবি জানিয়ে সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অনেক সময় পর্যবেক্ষকদের প্রতিপক্ষ মনে করেন। এ জন্য তাদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা এমন মতামত তুলে ধরেন। সকাল ও বিকেলে দুই পর্বের সংলাপে আমন্ত্রিত ৮১টি দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে ৭৭ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতিকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। কমিশনের এজেন্ডা একটাই– একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া। একটি ভালো নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালনের জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে।
রাজনীতিতে জড়িত কাউকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দিতে সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা যেন রাজনীতি ও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন। এ বিষয়ে সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তারা রাজনৈতিকভাবে মোটিভেটেড থাকলে ইমেজ নষ্ট হবে। নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সিইসির সভাপতিত্বে সংলাপে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বক্তব্য দেন। এ সময় অন্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, অতিরিক্তি সচিব কেএম আলী নেওয়াজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ পর্ব শেষ করল ইসি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিক এ সংলাপ শুরু হয়।
যেসব মতামত এলো
সংলাপে খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা খন্দকার বলেন, ভোটার তালিকা কেন্দ্রে টানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। প্রার্থীরা বাসায় গিয়ে নম্বর দেন। এটি নিয়ে কেন্দ্রে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভোটারের। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডেমক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ ভোট গ্রহণকালে পর্যবেক্ষকদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদ রোধে ইসির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার।
মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) চেয়ারম্যান গোলাম আযম বলেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা রয়েছে। ভোটের আগের ১০ দিন ও পরের ১০ দিন সেনা সদস্য মোতায়েন রাখতে হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (বিএসইআরআই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হচ্ছে। এ কারণে বুথের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এই ভোট বিষয়ে ভোটারকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
এ ছাড়া পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা ভোটকেন্দ্রের পরিবর্তন হলে পর্যবেক্ষকদের আগে জানানো; জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা; পর্যবেক্ষকদের অবাধ তথ্য সরবরাহের পরিবেশ নিশ্চিত করা; প্রার্থীর আচরণবিধি অনুসরণ, খরচ তদারকসহ নানা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ব্যক্তি পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা দেওয়ার সক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই। একজনের সঙ্গে একজন গানম্যান নিয়োগ করে দিলাম– এটি সম্ভব নয়, বাস্তবসম্মতও নয়। তারপরও নিরাপত্তা হানিকর ঘটনা ঘটলে ইসি অ্যাড্রেস করবে।
পোস্টাল ভোটিং অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর অনুরোধ বিএনপির
প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের সুবিধার্থে নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর জন্য ইসিকে অনুরোধ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে প্রবাসে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাদের বৈধ পাসপোর্ট দিয়ে ভোটার তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য নিবন্ধন করা কঠিন। তাই আমরা ইসিকে অনুরোধ করেছি, এসব দেশে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হোক, যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভোটার হতে পারেন। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
এনসিপি নেতাদের বৈঠক
গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির মক ভোটিং শনিবার
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করতে ‘মক ভোটিং’-এর আয়োজন করেছে ইসি। আগামী শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন-সংলগ্ন শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ভোটার এ অনুশীলনে অংশ নেবেন। ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের ভোটার নিয়ে শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মক ভোটিং’ হবে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, সত্যিকারের নির্বাচনের মতোই ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট, ভোটার– সবই থাকবে মক ভোটিংয়ে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটাররা লাইন ধরে ভোটও দেবেন। শুধু থাকবে না রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর নাম ও প্রতীক। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতাও থাকবে।
Posted ১২:০৪ পিএম | বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।