জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। এদিকে শরিফ ওসমান হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন তাঁর বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আসামি হস্তান্তর-সংক্রান্ত যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে, তার আওতায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
গ্রেপ্তার দুজনকে ফেরত আনার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ভারত সরকারের কাছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখনও পূর্ণাঙ্গ নয়। কনস্যুলার অ্যাকসেস পাওয়া গেলে আমাদের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় শনাক্ত ও সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি অন্য দেশের আইন ও আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ফিরিয়ে আনার সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।’
গতকাল পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীতে আততায়ীর গুলিতে মারাত্মক আহন হন ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীরকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।
কলকাতা প্রতিনিধি জানান, গত রোববার বিকেলে ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়। তখনও এসটিএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ প্রসঙ্গে কিছুই জানানো হয়নি। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ও কলকাতার সংবাদের সূত্র ধরে দূতাবাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় এসটিএফের সঙ্গে। সে সময় গ্রেপ্তারের তথ্য স্বীকার করলেও এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় এসটিএফ। তাই রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনস্যুলার অ্যাকসেস চায় বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত এই অ্যাকসেস পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে রোববার রাতে কনস্যুলার অ্যাকসেসের চিঠি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর পর ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত চিঠি দূতাবাসে মেইল করে এসটিএফ। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও দুই আসামির পরিবারকে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। গতকাল সংগঠনটির মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে গ্রেপ্তারের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এখন সবচেয়ে জরুরি দ্রুত তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনা। হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন
ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, এই খুনের পরিকল্পনা করেছে, খুনে সহায়তা করেছে এবং এখন পর্যন্ত খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে লালন-পালনের চেষ্টা করছে, তাদের অতি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’
বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন বোন
ঝালকাঠির নলছিটি প্রতিনিধি জানান, গতকাল নলছিটি প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালাতে সহায়তাকারীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
মাসুমা হাদি বলেন, হাদি হত্যার বিচারে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হোক। দায়সারা কোনো অভিযোগপত্র দেওয়া হলে তা পরিবার এবং ‘বাংলাদেশপন্থি জনগণ’ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুমা হাদি বলেন, ভাই হারানোর যন্ত্রণা আপনি নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারেন। তাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ওসমান হাদির ভগ্নিপতি মনির হোসেন, নলছিটি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির রানা, মুফতি হানযালা নোমানী, স্বেচ্ছাসেবক শাহাদাত আলম ফকির ও সাথী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
Posted ১২:৫৬ পিএম | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।