বিশ্ব ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত

প্রাচীন ইরানে ইফতারের সময় কামান থেকে গোলা ছোড়া হতো। সেই শব্দ শুনে রোজা ভাঙতেন মুসল্লিরা। সময় পরিবর্তন হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ইফতার সামগ্রীতে এখনো টিকে আছে প্রাচীন স্বাদ। অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও কিছু খাবার ও উপকরণ পুরো দেশে বেশ জনপ্রিয়।
ইরানের ইফতার টেবিলে সচরাচর যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে আছে- খেজুর ও বাদাম, আশ রেশতেহ, শোলে জার্দ ও হালিম।
অনেক মুসলিম দেশের মতো ইরানেও খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙাটা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এছাড়া প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস হিসেবে কাঠবাদাম, আখরোট এবং পেস্তাবাদামও ইফতারের সময় বেশ প্রচলিত।
আশ রেশতেহ হলো স্যুপ। যা পার্সিয়ান নুডলস, বিভিন্ন ধরণের শিম, ডাল, ধনেপাতা ও পালং শাক দিয়ে তৈরি করা হয়। পরিবেশনের আগে এর ওপর বেরেস্তা, পুদিনা ও কাশক (এক ধরনের ঘোল বা ছানা) দেওয়া হয়।
জাফরান দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ভাতের পুডিং হলো শোলে জার্দ। ইফতারে এটি ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া হয়। চাল, চিনি, জাফরান ও গোলাপজলের মিশ্রণে তৈরি এই পদটি দারুচিনি, এলাচ এবং বাদাম কুচি দিয়ে সাজানো হয়।
ইরানে রমজান মাসে অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো হালিম। এটি গম, মাংস (সাধারণত ভেড়া বা গরু) এবং দারুচিনি ও হলুদের মতো সুগন্ধি মশলার মিশ্রণে তৈরি করা হয়।
ইরানে রমজান মাস বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন এক ‘নাইটলাইফ’ এর আবহ দেয়। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শহরগুলো কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে ওঠে। সারাদিন রোজা রাখার পর মানুষ এই জমকালো নৈশজীবনে শামিল হয়। রেস্তোরাঁ, দোকানপাট এবং ক্যাফেগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। বাসিন্দারা নানা পদের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সামাজিক আড্ডায় মেতে ওঠেন।
তথ্যসূত্র: লিভিং ইন তেহরান এবং ভিজিট আওয়ার ইরান ডটকম
Posted ৩:৪৫ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।