শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

মৌলিক সংস্কারে স্পষ্ট হচ্ছে মতপার্থক্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   231 বার পঠিত

মৌলিক সংস্কারে স্পষ্ট হচ্ছে মতপার্থক্য

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শেষের দিকে। এ সময়ে মৌলিক বিষয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে। র‌্যাংকিং পদ্ধতি নয়, সমাধান না হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চায় বিএনপি। সাংবিধানিক সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ হতে হবে নির্বাহী আইনে। তবে জুলাই সনদের খসড়াকেও দলটি ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিএনপির প্রস্তাবের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদের খসড়াকে অসম্পূর্ণ বলছে। এছাড়াও নির্বাচিত সরকারকে ২ বছরের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বিপজ্জনক। দলটির মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে হয় অধ্যাদেশ জারি, নয়তো গণভোট দিতে হবে। এনসিপি বলছে কীভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, তা পরিষ্কার না হলে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে কিনা তা ভেবে দেখবে। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এসব আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান জানিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে।

কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে ৩১ জুলাইয়ের (আগামীকাল) মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে মাত্র ২ দিন সময় বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে। আর প্রাথমিক পর্যায়ে ঐকমত্যের খসড়া বুধবারের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সোমবার থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় আলোচনায় আসার পর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নতুন করে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে তারা একটা প্রস্তাব সবার সামনে হাজির করতে চাচ্ছেন। আলী রীয়াজ বলেন, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত সেগুলোর মন্তব্যের জন্য তারা অপেক্ষা করবেন। তিনি আশা করছেন, বিভিন্ন মন্তব্য সমন্বয় করে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে পারবেন। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেসব বিষয় ও মন্তব্যগুলো নিয়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সনদের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নীতিগতভাবে আমরা সবাই একমত। তবে গঠন পদ্ধতি নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। কমিশনসহ বিভিন্ন দলের পক্ষে একটি বাছাই কমিটির কথা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার থাকবেন। তাতেও সিদ্ধান্ত না হলে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল ৫ জন করে ১০ জন ও অন্যান্য দল ২ জনের নাম প্রস্তাব করবে। এর মধ্যে চারজন প্রস্তাব করলে হবে। আর এখানেও সমাধান না হলে র‌্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। আমরা এ জায়গায় একমত হতে পারিনি। আমরা চাই, এটি সর্বশেষ অপশন হিসাবে সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক। সংসদে আলোচনা হবে। এ নিয়ে নাগরিকরা মতামত দিতে পারবেন। সভা-সেমিনার হবে। সেখানেও সমাধান না হলে আমরা ত্রয়োদশ সংশোধনীর পক্ষে। তবে এক্ষেত্রে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না বিএনপি। সংবিধানকে আমরা আর ভারী করতে চাই না। আমরা মনে করি, আইনিভাবে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সবকিছু বাছাই করতে গেলে দেখা গেল সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। এতে করে অনেক কাজ সহজে করা যাবে না। আমরা নির্বাহী বিভাগকে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সে নিয়ে আসতে চাই। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের খসড়ায় যে অঙ্গীকারের বিষয়ে বলা হয়েছে, আমরা একমত সেখানে। কোনো ভাষা বা শব্দগত সংশোধনী থাকলে আমরা দেব। আর দুই বছরে বাস্তবায়নের বিষয়েও বিএনপি একমত। বিএনপি নেতা বলেন, ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে থাকতে পারবেন না। সে প্রস্তাব প্রথম আমরা দিয়েছি। এতকিছুর পর স্বৈরাচারী শাসন কায়েম হবে তা মনে হয় না। এটি সবাই মেনে নিয়েছি। তাই আমরা সব বিষয়ে দ্বিমত সেটা বলা ঠিক নয়। নারী আসন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই সাংবিধানিকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন করতে। আমরা নারীদের সংরক্ষিত আসনের পক্ষে। এক্ষেত্রে ১০০ আসন করার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে তা আনুপাতিক হারে আগের মতো হতে হবে। অনেকে সরাসরি নির্বাচন করার কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, আমাদের দেশের বাস্তবতায় নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা বলেছি, ৩০০ আসনের মধ্যে এবার ৫ ও আগামীতে ১০ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। ন্যায়পাল নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৮০ সালে ও ২০০৫ সালে ন্যায়পাল করা হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় সনদে ন্যায়পালের কথা থাকতে হবে। এর আইন ও কার্যকর করা নিয়ে বিস্তারিত থাকতে হবে। এর জন্য সচিবালয় করতে হবে। সেটিও আইনের মাধ্যমে করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জুলাই সনদের খসড়াকে অসম্পূর্ণ বলেছেন। এছাড়াও নির্বাচিত সরকারকে ২ বছরের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বিপজ্জনক। তিনি বলেন, আজকে ঐকমত্য কমিশন বলেছে, এটা একটা নমুনা মাত্র, ভুল হয়েছে। ফলে ভুল হলে মন্তব্যের দরকার নেই। তবে যদি ২ বছরের মধ্যে প্রস্তাব বাস্তবায়ন মূল কথা হয়, তাহলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে না।’ জামায়াত নিজস্ব একটি খসড়া সনদ তৈরি করছে এবং কমিশনে জমা দেবে। তিনি আরও বলেন, ‘সংলাপে যেসব বিষয়ে একমত হচ্ছি, সেগুলো বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।’ তার মতে, প্রস্তাব বাস্তবায়নের দুটি পথ। ১. অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি আইনি কাঠামো গঠন করে পরে নির্বাচিত পার্লামেন্টে তা অনুমোদন। ২. গণভোটের মাধ্যমে জনগণের চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া। সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা যে কোনো একটি পদ্ধতিতে এই কাঠামোকে আইনগত বৈধতা দিতে চাই।’ তিনি জানান, তারা ঐকমত্যের পক্ষে। কিন্তু সেটা হতে হবে কার্যকর এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ‘অনিশ্চয়তার দিকে’ চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ‘আমরা একমত হয়েছি যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। এখানে প্রায় সবাই একমত। একমাত্র বিএনপি কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।’ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি। এরা ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান নির্বাচন করবেন। যদি একমত না হন, তাহলে প্রথমে সর্বসম্মতভাবে, পরবর্তী সময়ে এক চয়েস ভোট, তারপর প্রয়োজনে র‌্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। এ পদ্ধতিতে ভোটার হবেন মোট সাতজন। উল্লিখিত পাঁচ সদস্য এবং সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের একজন করে বিচারপতি। জামায়াতের এ নায়েবে আমির বলেন, ‘বিচারপতি দুজন যুক্ত করা হয়েছে যেন এককভাবে তৃতীয় দল বা অন্য কেউ ডিসাইডিং ফ্যাক্টর না হয়ে যায়। আমরা আশা করি, বিচারপতিরা নিরপেক্ষ থাকবেন এবং হর্স ট্রেডিংয়ের আশঙ্কা কমবে।’ তিনি জানান, বিএনপির আপত্তি মূলত এই, যদি ঐকমত্য না হয়, তাহলে বিষয়টি সংসদে পাঠানো হোক। তবে জামায়াতসহ বেশির ভাগ দল মনে করে সংসদে পাঠালে তা আর সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে না। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সংসদে পাঁচ-ছয়টা দল আছে, অথচ এই বডিতে ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।’

 

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন- ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর ব্যাপারে সবাই একমত। বিচার বিভাগকে বাইরে রাখার বিষয়েও ঐকমত্য আছে। সরাসরি ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যাওয়ার চেয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব র‌্যাংক চয়েজ বেটার।’ তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুরোপুরি সমাধান আসতে হবে। আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি লাগবে। আর সংবিধান সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে গণপরিষদ নির্বাচন সর্বোত্তম। জুলাই সনদ যাতে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার মধ্যে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।’ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতির কথা বললেও তা নিয়ে আলোচনা না করেই হঠাৎ জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশ করেছে। এটি সঠিক কাজ নয়। ‘আমরা এটির তীব্র বিরোধিতা করছি। আলোচনার পদ্ধতি নিয়েই আলোচনা হয়নি, অথচ তারা খসড়া প্রকাশ করেছে। এটা আমরা গ্রহণ করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, নির্বাচনের আগেই সেগুলোর আইনগত ভিত্তি পেতে হবে। সেই ভিত্তিতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হতে হবে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে আলোচনায় ‘র‌্যাংক চয়েস’ (পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটিং) পদ্ধতি নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এই পদ্ধতি অনুযায়ী বিচার বিভাগ থেকে আরও দুই সদস্যকে যুক্ত করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও উপস্থিত আছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান ও আইয়ুব মিয়া। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে মঙ্গলবারের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে- গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি অন্যতম।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ৩:১৭ এএম | বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।