বাণিজ্য ডেস্ক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তর্কে জড়ালেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনের ‘কারওয়ানবাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়’ এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর সঙ্গে এই তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবীবা।
সোমবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই বাহাসের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই সংসদ সদস্যকে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তীব্র বাক্যবিনিময়েও লিপ্ত হতে দেখা যায়।
সংলাপে একজন বক্তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১২ এর অন্তর্ভুক্ত রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ানবাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তাছাড়া সরকারের এক মন্ত্রীই বলেছেন- সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু হলে সেটা চাঁদাবাজি হয় না। এটাতে চাঁদাবাজরা উৎসাহিত হয়।
নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমি আসলে চাঁদাবাজ এলাকার এমপি। আমার এলাকার কারওয়ানবাজারে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এ সদস্য বলেন, যে সরকার পালিয়ে গেছে, আগে সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ঢাকা-১২ এর সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল) নিজেই এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন বর্তমানেও চাঁদাবাজি চলছে, সেটা বন্ধ করা নিয়ে আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। আগে আগের সরকারের লোকরা করতো, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।
এ সময় সংলাপের আরেক বক্তা বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবীবা জামায়াত এমপির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একজন এমপি বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অথচ কারা করছেন, তিনি জানেন না। একজন মন্ত্রী কোন অনুষ্ঠানে কোন প্রসঙ্গে কী বলেছেন, সেটার খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এমন চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না।
মাহমুদা হাবীবা আরও বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এসব অপরাধ ও সমস্যা সমাজে ঢুকে গেছে। তবে আমার এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সে সরকারি দলের হোক বা অন্য দলের- আমি তো কোনো সমঝোতা করবো না। আমি পদক্ষেপ নেব, আইনের আশ্রয় নেব। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। বর্তমান সরকার যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই পর্যায়ে জামায়াতের এমপি সাইফুল আবারও মাইক নিয়ে বলেন, আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি। এখানে আগেও সরকারি দলের লোকরা চাঁদাবাজি করতো, এখনও সরকারি দলের লোকরাই করছে। গত জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে কারওয়ানবাজারে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। যুবদলের নেতা মোসাব্বির নিহত হয়েছেন। সেটা তো সবাই দেখেছেন। আর সে সময় তো বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এলাকায় সরেজমিন দেখতে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, শুধু কারওয়ানবাজার নয়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও এলাকায়ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। এসব চাঁদাবাজি বন্ধেও সরকারের সহযোগিতা চাইবো।
এর জবাবে বিএনপির এমপি মাহমুদা বলেন, চাঁদাবাজি হলে মামলা করেন, তদবির নয়। জবাবে সাইফুল বলেন, পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না।
দুই এমপির এমন তর্ক চলাকালে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সঞ্চালক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আজ এখানে সরকারি ও বিরোধীদলের এমপির মধ্যে যে বিতর্কটা দেখা গেল- সেটাও কিন্তু এক ধরনের নতুন ঘটনা ও পরিবর্তন। কোনো একটা ইস্যু নিয়ে সংসদে যেমন আলোচনা হয়, তেমনি এখানেও প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে হলেও গঠনমূলক একটা আলোচনা তো হলো। আমরা যে পরিবর্তন ও সংস্কারের কথা বলছি- এটার মাধ্যমে তারই প্রতিফলন।
Posted ৮:০০ পিএম | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।