নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | 266 বার পঠিত

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘তিন নেতার মাজার’ নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল জাতির এই তিন মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমউদ্দীন-জাতীয় এ তিন নেতার মাজার এখন ছিন্নমূল মানুষ, মাদকসেবী এবং ভাসমান পতিতাদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে! বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। বস্তুত মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের দখলে থাকা এ স্থাপনা হারাতে বসেছে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা। এ স্থাপনা ও এর আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘তিন নেতার মাজার’ ঘিরে দিনে ও রাতে বসে নেশার আড্ডা। অথচ ঐতিহাসিক এ স্থাপনার মর্যাদা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের জোরালো তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এখানে হরেকরকম নেশাদ্রব্য বিক্রি-সেবনের সঙ্গে চলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই টেনেহিঁচড়ে ধরা হয় যুগান্তরের প্রতিবেদককে। তার কাছে জানতে চাওয় হয়, ‘কী লাগবে’। প্রতিবেদক দেখতে পান, আলো-আঁধারে থাকা পুরো মাজার এলাকায় তখন নেশাগ্রস্তরা অবস্থান করছে। একপর্যায়ে কয়েকটি সিগারেট পকেটে দিয়ে প্রতিবেদকের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। এ চিত্র থেকেই তিন নেতার মাজারের পরিবেশ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। এ মাজারের পরিবেশ বর্তমানে এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নেশা করতে দেখা যায় পুরো মাজার এলাকায়।
মাজারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একজন নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, হাজারো চেষ্টা করেও মাজারের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারছেন না। তিনিই বরং নেশাগ্রস্ত আর ভবঘুরেদের সমীহ করে চলেন। মাজারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অন্য একজন জানান, এ মাজারের পবিত্রতা রক্ষাসহ সুন্দর রাখতে অন্তত ১০-১৫ জন স্টাফের প্রয়োজন। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন, যার কিছুই নেই।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী। ফজলুল হক ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুক্তফ্রন্ট গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বস্তুত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক আমাদের দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আমরা সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমউদ্দীনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মাজারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। এ বিষয়টি যাদের দেখার কথা তারা কী করছেন? বস্তুত কেবল ‘তিন নেতার মাজার’ই নয়, আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা-যেমন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রায়ের বাজারের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ- এসব স্থাপনাও সারা বছর অবহেলায় পড়ে থাকে। বস্তুত আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমাজ থেকে অপরাধীদেরই নির্মূল করা সম্ভব না হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহনীর অভিযানে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মর্যাদা সুরক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে; পাশাপাশি এসব স্থাপনার মর্যাদা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।
Posted ৫:৫০ পিএম | মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।