নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 220 বার পঠিত

আবারও একটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জিলা অনাকাঙ্ক্ষিত এক সহিংস পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করিল। বুধবার সমকালের একটি প্রতিবেদনে যদ্রূপ বলা হইয়াছে, এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত করিয়া জিলা শহরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার মধ্যাহ্নে প্রহারে হত্যা করে। ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরই পাহাড়ি-বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
যাহার পরিণামে শহরের একটি বাড়ি ও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির পরও দু্ই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে। তবে আপাতত স্বস্তির বিষ, প্রশাসন বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সহিত লইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান। পূর্বের ন্যায় অপর দুই পার্বত্য জিলাও যাহাতে অনুরূপ অস্থিরতায় আক্রান্ত না হয় তজ্জন্য তাহারা প্রতিবেদনমতে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করিয়াছে। স্মর্তব্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে এক বাঙালি যুবক পাহাড়িদের হস্তে নিহত মর্মে গুজব বিস্তার লাভ করিলে এই খাগড়াছড়িতেই পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে ভয়ংকর সংঘর্ষের সূচনা হয়। এক পর্যায়ে তাহা অপর দুই পার্বত্য জিলায়ও প্রসারিত হয়। সেই সময় গোলাগুলিতে খাগড়াছড়িতে তিন এবং রাঙামাটিতে একজন নিহত হন। ভাঙচুর ও ভস্মীভূত হয় অনেক সরকারি স্থাপনা ও দোকানপাট। উক্ত ঘটনার পর আমরা এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করিয়া সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনের প্রতি দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাইয়াছিলাম। মঙ্গলবারের ঘটনায়ও আমরা সকলের প্রতি অনুরূপ আহ্বান জানাই।
মাত্র দুই সপ্তাহেরও অল্প সময়ে একই জিলায় বাঙালি-পাহাড়ির মধ্যে দুইবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই আশঙ্কা পোষণ অমূলক নহে, দীর্ঘদিন যাবৎ সহাবস্থান করিলেও উহাদের পরস্পরের মধ্যে আস্থাহীনতা প্রবল। তবে এই আস্থাহীনতার পশ্চাতে বহু ঐতিহাসিক কারণ থাকিলেও অন্তত ৫ আগস্ট সংঘটিত শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের পর উহা হ্রাস পাইবার কথা।
আমরা জানি, এই গণঅভ্যুত্থানে সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ের বাসিন্দাদেরও অংশগ্রহণ ছিল। ফলস্বরূপ গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও অতীতের সকল বিভেদ ভুলিয়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এই কথা এখন বলাই যায়, আলোচ্য সংঘাত-সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব না হইলে সরকারের ঐ প্রতিশ্রুতি কাগজেই থাকিয়া যাইবে।
তবে আমরা মনে করি, বিশেষত ১৯৮০ ও ৯০ দশকের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্ত করিবার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হইয়াছিল, তথায় প্রকৃত অর্থেই সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে বিরোধ নিরসনের উপায় উল্লেখ ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, বিষয়টি বিগত সরকারসমূহের জানা থাকার পরও উক্ত শান্তিচুক্তি কার্যকরের অর্থপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয় নাই। সকলেরই জানা, সাধারণ পাহাড়িদের অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দু হইল দীর্ঘদিন যাবৎ বিরাজমান ভূমি সমস্যা। উক্ত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের পাশাপাশি ভূমি কমিশনও গঠিত হইয়াছে।কিন্তু যাহা বাস্তবতা, উক্ত ভূমি কমিশন অদ্যাবধি সক্রিয় হয় নাই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশই নহে; প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই অঞ্চল অর্থনৈতিক বিবেচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত মিয়ানমারের অব্যাহত অপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে ভূরাজনৈতিক দিক হইতেও অঞ্চলটির গুরুত্ব নূতন মাত্রা পাইয়াছে। অর্থাৎ পার্বত্যাঞ্চলে অশান্তি দীর্ঘদিন চলিতে পারে না।
বর্তমান সরকার বহু ক্ষেত্রে অতীত সরকারসমূহের ব্যর্থতা ও উদাসীনতা হইতে বাহির হইয়া আসিবার চেষ্টা চালাইতেছে। যাহার ফলস্বরূপ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহে সংস্কার কার্যক্রম সূচিত হইয়াছে।
আমাদের প্রত্যাশা, অনুরূপ উদ্দীপনা প্রদর্শন করিয়া সরকার পার্বত্যাঞ্চলেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে এবং ইহার অংশরূপে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নকার্যও আরম্ভ হইবে।
Posted ১২:৪৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।