| শনিবার, ১৮ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | 242 বার পঠিত

’ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দু’দেশের উন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক অর্জন। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরাণ্বিত করবে এবং আমরা যে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি আমি চাই ভারতের বিনিয়োগকারীরাও এখানে এসে আরও বিনিয়োগ করুন। আমরা দু’দেশই তা লাভবান হবো।’
ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি উদ্বোধন ঘোষণাকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী বাটন চেপে পর্দা উন্মোচন করেন।
মার্চ মাস বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, একাত্তরে শহীদ সব মুক্তিযোদ্ধাও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ভাতৃপ্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবাধ প্রবাহ, ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক সেতু বন্ধন আমাদের দু’দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর করেছে। আমরা কৃতজ্ঞ যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরকার এবং জনগণ অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছিল। ১ কোটি বাঙালি শরণার্থীদের স্থান দেওয়া, তাদের খাবার-চিকিৎসার ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেওয়া এসব আমরা ভারতের কাছ থেকে পেয়েছি। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীবাহিনীর অভিযানে আমরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি।’
’আমি ব্যাক্তিগতভাবে ভারতের জনগণ, ভারতের সরকারের কাছে ঋণী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা জাতির পিতাকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয় আমরা দুই বোন, আমি, রেহানা তখন ভারতেই আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমাদের আরও আম্মীয় স্বজন যারা বেঁচে গিয়েছিল তারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনাকে বাস্তবে আমরা রুপদান করেছি। দু’দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা একে একে আমরা সমাধান করেছি। ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তি করেছি। ভারতের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে যেসব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল-রেল যোগাযোগ থেকে শুরু করে সড়ক যোগাযোগ সবই আমরা মুক্ত করেছি। ব্যবাস-বাণিজ্যে প্রসারণ আমরা ঘটিয়েছি। আমরা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভারতের কাছ থেকে আমরা উন্নয়নে সহযোগিতা পাচ্ছি। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করা, উভয়দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছি।’
২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমি ভার্চুয়ালি এই পাইপলাইনের কাজ উদ্বোধন করি। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিজীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যে এই পাইপলাইনের কাজ উদ্বোধনের ফলে আজকে তা সম্পন্ন হলো। ভারতের শিলিগুতে অবস্থিত নোমালিগড় রিফা্িনারি লিমিটেড হতে বাংলাদেশের দিনাজুপুর জেলার পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩১.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছি। ভারতই তা নির্মাণ করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশে পড়েছে ২৬.৫৭ কিমি এবং ভারতের অংশে ৫ কিমি।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানিতে ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। আমরা আশা করি এই পাইপলাইন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় ডিজেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাইপলাইন নির্মাণে প্রযুক্তিগত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য আমি ভারত সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমি আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীসহ, আসামের জনগণকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা পাইপলাইন নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত হতে বছরে ৬০ হতে ৮০ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হতো।
পাইপলাইন নির্মাণের ফলে বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হবে। আসামের থেকে একটা ভালো বাজার বাংলাদেশ সৃষ্টি হলো। যেখানে এই ডিজেলগুলো বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের কাজে লাগবে। সেখানে আসামবাসীও লাভবান হবে, ভারতবাসীও লাভবান হবে। পার্বতীপুরে বর্তমানে আমাদের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ১৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে আমরা আরও আরও ২৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টনে উন্নীত করবার কাজ করে যাচ্ছি।
ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মতো আগামী দিনে আরও অনেক সফলতা বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে উদযাপন করবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দু’দেশ একইসাথে কাজ করবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
Posted ২:১৬ পিএম | শনিবার, ১৮ মার্চ ২০২৩
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | admin
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।