ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | 33 বার পঠিত
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ বড় নাকি ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ? কোনটার আবেদন বেশি? কোন লড়াইটির আকর্ষণ বেশি? কোন দুই দলের খেলা ক্রিকেট অনুরাগীদের বেশি টানে?
এক সময় তা নিয়ে বিতর্ক হতো। পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমের সাথে দক্ষিণ এশীয় প্রচার মাধ্যমের রীতিমতো কলম যুদ্ধ চলতো। কারণ, পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম সব সময়ই মনে করতো যে, ইংলিশ আর অসিদের ক্রিকেট লড়াই বড়। এ লড়াইয়ে আভিজাত্য, মর্যাদা, আকর্ষণ, উত্তেজনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবই বেশি।
অ্যাশেজকে অনেক বেশি জনপ্রিয় দ্বৈরথ বলেও মনে করতো পশ্চিমা মিডিয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ এশীয় প্রচার মাধ্যম বরাবরই ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াইকে এগিয়ে রাখতো। তাদের কাছে ভারত আর পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াই অনেক বড় বলে গণ্য হতো। দেখানোর কারণও ছিল।
কঠিন বাস্তবতা হলো এক সময় অভিন্ন ভূখণ্ড থাকলেও সেই ৪৭-এ দেভাগের পর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তান চির শত্রুতে পরিণত। ভৌগোলিক সীমাররেখা, কাশ্মির ইস্যু আর রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক শুরু থেকেই খারাপ। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ আর সীমান্তে উত্তেজনা লেগেই থাকে। সংঘর্ষ, গোলাগুলিও হয় মাঝে মধ্যে। ভারত ও পাকিস্তান তাই রীতিমতো শত্রুতে পরিণত হওয়া দুটি দেশ।
সেই দুই দেশের নাগরিকদের কাছে তাদের পরস্পর ক্রিকেট লড়াই শুধু তেরঙ্গা আর সবুজ-সাদা পতাকার ব্যাট ও বলে লড়াই নয়, নিছক লড়াই ছাপিয়ে দুটি কাছাকাছি অবস্থানের অথচ রাজনৈতিক শত্রু ভাবাপন্ন দেশের ক্রিকেট যুদ্ধ বলেই পরিগণিত হতো। এবং একটা ‘মার মার, কাট কাট’ অবস্থা তৈরি হতো।
সেই লড়াইয়ে উত্তেজনা, আকর্ষণ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকতো সর্বোচ্চ। দুই দেশের ক্রিকেট দল প্রায় কাছাকাছি ও সমান শক্তির বলে লড়াইটাও হতো জমজমাট। সেই লড়াইয়ের জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঢেউ আছড়ে পড়তো আশপাশের দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরেও। শুধু তাই নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বই বুঁদ হয়ে থাকতো এই লড়াইয়ের মাঝে। সব মিলিয়ে ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ প্রাণভরে উপভোগ করতো সবাই।
সেই ৭০ ও ৮০’র দশকে পাকিস্তানে যখন মাজিদ খান, জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, মুশতাক মোহাম্মদ, আসিফ ইকবাল, ওয়াসিম বারি, সারফরাজ নাওয়াজ ও ইমরান খানের মতো নামি ক্রিকেটাররা খেলতেন, একই সময়ে ভারতে সুনিল গাভাস্কার, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, দিলিপ ভেঙ্গসরকার, মহিন্দর অমরনাথ, যশপাল শর্মা, সন্দিপ পাতিল, কপিল দেব ও রবি শাস্ত্রির মতো মেধাবী ও উঁচুমানের ক্রিকেটারদের পদচারণা ছিল। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর শক্তির একটা ভারসাম্যও ছিল তখন।
এরপর আজহারউদ্দিন, শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভি এস লক্ষ্মণ, জাভাগাল শ্রীনাথ, মানিন্দার সিং, অনিল কুম্বলেরা ভারতীয় ক্রিকেটকে করেছেন আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত। একই ভাবে সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল, ইজাজ আহমেদ, সেলিম মালিক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, মোহাম্মদ ইউসুফ, রশিদ লতিফ, আকিব জাভেদ, ইনজামাম উল হক, মোশতাক আহমেদ, সাকলায়েন মোশতাকরাও পাকিস্তান ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা রেখেছেন বহাল।
তখন দুই দেশের লড়াই হতো সেয়ানে সেয়ানে। এরপর বিরেন্দর শেবাগ, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, জহির খান ও ধোনিরা ভারতের মান ধরে রাখতে পারলেও শোয়েব আখতার, শহিদ আফ্রিদি, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ ইউসুফ, ইউনিস খান ও সাঈদ আজমলদের অধ্যায় শেষ হতেই পাকিস্তানে মেধাবী ও বিশ্বমানের ক্রিকেটারের সংখ্যা কমতে থাকে।
এর পরপরই পাকিস্তানের অবনমন শুরু। তারপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের চেয়ে পিছিয়ে পড়তে থাকে পাকিস্তান। আর আইসিসি ইভেন্টের হিসাব, সমীকরণ ও ইতিহাসেও ভারত এবং পাকিস্তান লড়াইয়ের আকর্ষণ কমিয়েছে।
পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে কখনোই ভারতের সাথে পারেনি পাকিস্তান। প্রতিবার হেরেছে। অর্থাৎ ৫০ ওভারের আসরের পাকিস্তানের সাথে বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্য শতভাগ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (একবার) ভারতকে হাতে গোনা ক’বার হারাতে পারলেও পাকিস্তানই হেরেছে অনেক বেশি। তাই ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে এখন ভারতের সামনে পাকিস্তান আন্ডারডগ হয়ে পড়েছে।
এসব কারণেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে বর্তমান সময়ে আর ‘মহারণ’ বলা যায় না। পাকিস্তান এখন আসলে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো দলই নয়। এ দুই দলের লড়াইটা এখন হয়ে গেছে একপেশে।
একপেশে লড়াইকে কি আর হাই ভোল্টেজ ম্যাচ বা ‘মহারণ’ বলা যায়?
Posted ৩:০৬ পিএম | রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।