ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বন্দরের ট্যারিফ কমলো না : পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   286 বার পঠিত

বন্দরের ট্যারিফ কমলো না : পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে

অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১ শতাংশ ট্যারিফই কার্যকর হলো। রোববার এ ব্যাপারে গেজেট জারি করে সোমবার থেকে তা কার্যকর করা হয়। বন্দর ব্যবহারকারী আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, কথা রাখেননি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে কথা দিয়েছিলেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো ট্যারিফ বসানো হবে না। প্রয়োজনে তিনি আবারও বৈঠক করে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করবেন। সেটা হলো না।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এ বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-খাদ্যশস্য, সার, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, সিমেন্ট, কয়লা, চিনি, লবণ ইত্যাদি। আর রপ্তানি করা হয় তৈরি পোশাক, পাট, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, চা, হিমায়িত পণ্য ইত্যাদি। অর্থাৎ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নির্ভর করে এ বন্দরের ওপর। বন্দরের সেবার মাশুল বৃদ্ধি করা হলে স্বভাবতই এর প্রভাব পড়বে এসব পণ্যের দামে। একদিকে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামালের আমদানি খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ভোক্তার কাছ থেকেই আদায় করবেন; ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়বে। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়বে পণ্য পরিবহণের খরচ, যার ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় রপ্তানিকারকরা পিছিয়ে পড়তে পারেন। অর্থাৎ মাশুল বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা তো বটেই, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনসাধারণও।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমান যে মাশুল রয়েছে, তাতে বন্দর লোকসানে নেই। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দর ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয় করেছে ৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মুনাফা ২ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এত টাকা মুনাফা করার পরও কেন এভাবে মাশুল বৃদ্ধি করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বস্তুত কোনো বিবেচনাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়ানো যৌক্তিক নয়। ভুলে গেলে চলবে না, চট্টগ্রাম বন্দর একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বন্দর কর্তৃপক্ষের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে বন্দর কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গীকার হলো ন্যূনতম খরচে এবং সবচেয়ে কম সময়ে সেবা প্রদান করা। তাছাড়া দেশের অর্থনীতিতে এমনিতেই এক ধরনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবার মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করায় তা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসাবে দেখা দিয়েছে। কাজেই মাশুল বৃদ্ধির উদ্যোগ থেকে কর্তৃপক্ষ সরে আসবে, এটাই প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৩৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।