শুক্রবার ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

জাতীয় ডেস্ক   |   বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   6 বার পঠিত

পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বুধবার সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো।

বিএনপি দলীয় সদস্য (কুমিল্লা-৯) মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরেও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা, প্রতি বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সম্পাদন ও বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না) ৩টির (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এস আলম গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বেক্সিমকো গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সিকদার গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাসা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; ওরিয়ন গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাবিল গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।

এসব মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত এ পর্যন্ত (২৫ মার্চ) ৭০ হাজার ৪ শত ৪৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশীট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।

অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা-জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে। তারা এটি করছে। তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের ইচ্ছা আগ্রহের কারণে আইন-কানুন, নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায়। যাতে কোন মানুষ ন্যয্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আমরা আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি-যারা এ দেশের অর্থ তছরুপ করে বিদেশে পাচার করেছে।

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে
বিএনপি দলীয় সদস্য (পটুয়াখালী-৪) এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এ কার্ড পরিবারের নারী প্রধানকে প্রদান করা হবে। ফলে এই সহায়তাটি যেমন সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারে নারী প্রধানের নামে হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। পরিবার ও সমাজের ওপর নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।

একই সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওযার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের বাকি তিন মাসে আরো ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচি আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা পালনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

এনসিপির আখতার হোসেন তার সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ যেসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে তাতে কত ব্যক্তি ও পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে? এতে কত বাজটে বরাদ্দ হবে? এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও মুল্যস্ফীতির মত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেক্ষত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হবে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে কত বাজেট তা এখনই বলছি না। পর্যায়ক্রমে এ জিনিসগুলোতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড যারা যাবেন তারা মাসে আড়াই হাজার পাবেন। একবারে আমরা সবাইকে দেবো না। পৃথিবীর কোন দেশের পক্ষে একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভবও নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসে উপভোগীর সংখ্যা ‍বৃদ্ধি করতে থাকবো। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে বরাদ্ধ বাড়াবো। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগুবো। আর আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না যে, মুল্যস্ফীতি হবে। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না বরং এই টাকা আমরা যাদের দেবো-সেইসব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে করে লোকাল অর্থনীতি বিনিময় হয়ে অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্খান বৃদ্ধি পাবে। আমাদের কোনো গবেষণা বলছে না মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৪৩ এএম | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(287 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।