বিশ্ব ডেস্ক | শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 14 বার পঠিত

ইসলামাবাদে পার্লামেন্ট হাউসের সামনে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছেন প্রতিবাদকারীরা। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি) জোটের সংসদ সদস্যরা গত শুক্রবার থেকে এই প্রতিবাদ শুরু করেন। এছাড়া ইমরান খানের মুক্তির জন্য আদালতে জামিন আবেদন করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ‘আওয়াম পাকিস্তান’ পার্টিও এই অবস্থানে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) মুখপাত্র আসলাম গৌরী সংসদ সদস্যদের ওপর পুলিশের আচরণের নিন্দা জানিয়ে আটক নেতাদের মুক্তি চেয়েছেন।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়, কারাবন্দি ইমরান খানের ডান চোখের ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে। এই তথ্যের পর টিটিএপি এবং পিটিআই সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ইমরান খানকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানান। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতান সতর্ক করেছেন, রেটিনা সার্জারিতে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও উন্নত সরঞ্জামের অভাব থাকলে ইমরান স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
পিটিআই নেতা শেখ ওয়াকাস আকরাম জানান, পুলিশ তাঁদের পার্লামেন্ট হাউসের ভেতরে ‘বন্দি’ করে রেখেছে। শুক্রবার রাত থেকে সংসদ সদস্যরা সেখানে অভুক্ত আছেন। পুলিশ বাইরে থেকে খাবার ও পানি ভেতরে নেওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। টিটিএপি নেতা মুস্তফা নওয়াজ খোখার খাবার সরবরাহের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সরকারের এই আচরণকে ‘মানবিকতাবর্জিত’ ও ‘ইয়াজিদিয়াত’ বলে সমালোচনা করেন।
প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইমরান খানের বোন আলিমা খান অভিযোগ করেছেন, আদালত লিখিত আদেশ দিতে দেরি করছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী দাবি করেছেন, ইমরান খানকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে নেওয়া হবে।
Posted ১:৫৪ পিএম | শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।