জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 63 বার পঠিত

বর্তমানে দেশে দুর্নীতি একটি রোগে পরিণত হয়েছে। গোটা সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে এ রোগ। তাই সবাইকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মামলায় রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন বিচারক। এ মামলায় ১৭ আসামিকে পৃথক দণ্ডসহ জরিমানা করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে বোন শেখ রেহানাকে প্লট দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মা-খালাকে প্ররোচনা দিয়েছেন টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন পাপ ও জুলুমের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা করো না। অথচ আবাসন সুবিধা থাকার পরও জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট নিয়েছেন শেখ রেহানা। দুর্নীতি বর্তমানে রোগে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি গোটা সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। আমাদের সমাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে, রুখে দাড়তে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পৃথিবীর যেকোনো দেশে থাকলেও বিচারের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক। ঢাকার চার নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক রবিউল আলম।
আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শেখ রেহানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্ররোচিত করে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট নিয়েছেন। টিউলিপ সিদ্দিক তার মা রেহানা সিদ্দিককে প্লট পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ও শেখ হাসিনার একান্ত সচিব সালাউদ্দিনকে মোবাইল ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশে এলে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং তাদের জবানবন্দিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। আসামি শেখ হাসিনা সকল আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রণাধীন অধীনস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারী থেকে প্রভাবিত করে দুর্নীতির মাধ্যমে তার প্লট বরাদ্দ প্রদানের ব্যবস্থা করে দিয়ে ফৌজদারী অসদাচরণ করেছে। এই তিনজন বাদে অপর আসামিরা পাবলিক সার্ভেন্ট। তারা বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে প্লট বরাদ্দ পেতে সহায়তা করেছেন।
আইনজীবী রাখার সুযোগ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারক বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পৃথিবীর যেখানে অবস্থান করুক না কেন সেই আসামিকে বিচার করতে আইনে কোনো বাধা নেই। কেবলমাত্র মৃত্যুদণ্ডের ধারার মামলার ক্ষেত্রে পলাতক আসামির ক্ষেত্রে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। “মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ধারা না থাকলে মামলায় পলাতক আসামির ক্ষেত্রে ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো ধারার অভিযোগ না থাকায় আসামিদের জন্য ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, উচ্চ আদালতে একাধিক সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আদালতের শুনানির অধিকার দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট আসামিকে আগে বিচার প্রক্রিয়ায় নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে হয় এবং পরে বিচার দাবি করতে হয়। অন্যথায় আসামি বিচারিক সুবিধা পেতে পারে না।
Posted ৪:৩৪ পিএম | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।