নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 311 বার পঠিত

নানা কারণে ফের জটিল সমীকরণে দেশের রাজনীতি। বিশেষ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে এখন দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট সুপারিশে লিপিবদ্ধ না করা ও গণভোটের সময় নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে এই বিভক্তি প্রবল হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন কোন ক্ষমতাবলে-তা নিয়েও বেশ কয়েকটি দল প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া কমিশনের আরও কিছু জায়গায় অস্পষ্টতা চিহ্নিত করে তা সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছে কয়েকটি দল। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ সাড়ে ৮ মাসের কর্মকাণ্ডের ফলাফল কী-তা নিয়ে হিসাব মেলাতে পারছে না রাজনৈতিক মহল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেশ লম্বা সময় নিয়ে পরিশ্রমসাধ্য একটি জার্নির পর ঐকমত্য কমিশন অবশেষে কাজ শেষ করেছে। কিন্তু কমিশন যেভাবে তাদের সুপারিশ দিয়েছে, তাতে ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ এ কথাটি আর বলা যাচ্ছে না। বরং কমিশনের এতদিনের কাজকে অর্থহীন বলে প্রমাণ করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া সৃষ্ট জটিল অবস্থার আশু সমাধান না হলে দেশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে চলে যেতে পারে। এমনকি নির্বাচন নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
তারা বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে হাতে সময় বাকি আছে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন মাস। সরকার এমনিতেই নানা সংকটে আছে। দেশের অর্থনীতি ভালো চলছে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট নাজুক। এর মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ, দ্বন্দ্ব বাড়ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে পদ্ধতি প্রস্তাবিত হয়েছে, সেটা গ্রহণ করা কোনোক্রমে উচিত হবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলোকেও একে অন্যকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এমন পরিস্থিতিকে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। কারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিভেদের সুযোগ নেওয়ার জন্য পতিত আওয়ামী লীগ ওতপেতে বসে আছে।
এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারক মহলের নানান বক্তব্য ও মন্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জটিল এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন দলগুলোর নানামুখী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুধু সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। সমাধান মিলছে না। আবার সরকারের তরফ থেকেও নানান শঙ্কার কথা জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে যমুনায় প্রথম সমন্বয় সভা হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হবে। নির্বাচন বানচালের জন্য ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে বানচালের চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড়-ঝঞ্ঝাই আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে জাতীয় অনৈক্য প্রতিষ্ঠার একটা প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, যে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, সেই স্বাক্ষরিত সনদবহির্ভূত অনেক পরামর্শ বা সুপারিশ ও সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে বিষয়গুলোতে তারা একমত ছিলেন না, সেখানে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। সেই নোট অব ডিসেন্ট সুপারিশে লিপিবদ্ধ করার একটা প্রতিশ্রুতি ছিল কমিশনের। কিন্তু অবাক হয়ে তারা লক্ষ করলেন, সুপারিশে সেই বিষয়গুলো নেই। নোট অব ডিসেন্টগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা তো ঐক্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন? তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এটা একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এটা প্রতারণা।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, এত প্রাণের বিনিময়ে সেটাকে ঠিকভাবে জাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, যতই দিন যাচ্ছে, ততই বিভক্তি বাড়ছে। বিভক্ত হয়ে পড়াটা, এটা কারা করছেন, কেন করছেন, এটাও উপলব্ধি করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠিক সময়ে হবে। তবে নির্বাচন কোনো কারণে পিছিয়ে গেলেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন যেন না পেছায়, সেজন্য আগে গণভোট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
Posted ৩:১৮ এএম | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।