শুক্রবার ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

ওঝার ভূমিকা লইবে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   270 বার পঠিত

ওঝার ভূমিকা লইবে কে?

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক দপ্তরের অধীনে গ্রাহকের নামে আগস্ট মাসে যেইভাবে অতিরিক্ত বিল আসিয়াছে উহাকে সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যথার্থই ‘ভূতুড়ে বিল’ বলা হইয়াছে। পূর্বের মাসে যেই গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আসিয়াছে ২০০ টাকা, পরের মাসে সেই বিল কয়েক গুণ হইয়া ১৪০০ টাকা হইবার হেতু কী? বিশেষত নিম্নবিত্ত গ্রাহকের জন্য এহেন অতিরিক্ত বিল কতখানি বোঝা হইয়া উঠিতে পারে, বলিবার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুত ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ ইহাই প্রথম নহে। দেশের অন্যত্র বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের এই প্রকার অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে আসিয়াছে। কিন্তু কমলগঞ্জে যেইভাবে অভিযোগ উঠিয়াছে, উহা বিস্ময়কর ব্যতিক্রম। দুই-একজন গ্রাহক নহে; অধিকাংশই এইরূপ ভৌতিক বিল পাইয়াছেন। এই ধারণা অমূলক নহে, গলদ ঘটিয়াছে গোড়ায়; মিটারের রিডিং দেখিয়া যেই বিল প্রস্তুত করা হয় সেইখানেই। একজন গ্রাহক অভিযোগ করিয়াছেন, তাঁহার প্রতিবেশীর মিটারের হিসাব অনুসারে ১৩২০ ইউনিট খরচ হইয়াছে। অথচ বিদ্যুৎ বিলে লেখা হইয়াছে ১৪০০ ইউনিট। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের খরচ যত বেশি হয়, ইউনিটপ্রতি মূল্যও বাড়িয়া যায়। এইখানে অতিরিক্ত ৮০ ইউনিট লেখা হইলেও তন্নিমিত্তে গ্রাহককে হয়তো ইউনিট বৃদ্ধি পাইবার কারণে সেইভাবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করিতে হইবে। আমরা জানি, পল্লীবিদ্যুতে ৫০ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য চার টাকার মধ্যে থাকিলেও ৬০০ ইউনিট ব্যবহারে উহা ইউনিটপ্রতি তিন গুণ হইয়া যায়।

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক দপ্তর হইতে বিল বৃদ্ধির কারণ হিসাবে গ্রীষ্মকালের যেই যুক্তি দেওয়া হইয়াছে, উহা হাস্যকর। তাপদাহে শুধু বৈদ্যুতিক পাখার বিদ্যুৎ খরচে সামান্য হেরফের হইতে পারে বটে; এই বৎসর জুলাই ও আগস্ট মাসের আবহাওয়া প্রায় অভিন্ন ছিল। কিন্তু জুলাইয়ে কম থাকিলেও আগস্টে আসিয়া বিল বাড়িবে কেন? কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্বীকার করিয়াছেন, দপ্তরে বসিয়া অনেকে মিটারের রিডিং লয়। এমনকি একজনের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে তাহারা ব্যবস্থাও লইয়াছেন। আমরা মনে করি, ইহা ভয়ংকর প্রবণতা এবং গ্রাহকের সহিত প্রতারণার নামান্তর। এই ক্ষেত্রে যাহারা মিটার রিডিং লইয়া থাকে তাহাদের অপরাধ যদ্রূপ রহিয়াছে, তদ্রূপ কর্তৃপক্ষও দায়িত্ব উপেক্ষা করিতে পারে না।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে কমলগঞ্জের শত সহস্র গ্রাহকের স্বার্থ যেইভাবে ক্ষুণ্ন হইয়াছে; যেইরূপে তাহাদের অতিরিক্ত বিল আসিয়াছে, সেইখানে তাহাদের ক্ষতিপূরণ জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। যেহেতু অধিকাংশ গ্রাহকের বিল লইয়া প্রশ্ন উঠিয়াছে, সেহেতু সমগ্র আগস্ট মাসের বিল পুনর্বিবেচনা করিতে হইবে। এমতাবস্থায় জুলাই মাসের তুলনায় অধিক বিল গ্রহণ করিলে উহা প্রশ্ন হইয়া দাঁড়াইবে। পূর্বের দুই মাসের বিলের সমন্বয় করিয়া উহা চূড়ান্ত করা যাইতে পারে।

আমরা চাহিব, বিদ্যুৎ বিভাগ কমলগঞ্জে ভৌতিক বিলের ঘটনা তদন্ত করিয়া গ্রাহককে আস্থায় লইয়া উহার সমাধান করিবে। এই ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যদি সর্প হইয়া দংশন এবং ওঝা হইয়া চিকিৎসার নীতি গ্রহণ করে, তাহা হইলে সমাধান পাওয়া দুষ্কর। আমরা মনে করি, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি, তৎসহিত ভবিষ্যতে এইরূপ অঘটনে গ্রাহকবান্ধব নীতি গ্রহণ করিতে হইবে। গ্রাহকদের এই ভোগান্তি হইতে মুক্তি দিতে দীর্ঘ মেয়াদে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার সমগ্র দেশেই সম্প্রসারণ করা যাইতে পারে। তাহাতে গ্রাহক ব্যয় বিষয়ে যদ্রূপ সচেষ্ট থাকিবে, তদ্রূপ গ্রাহক পর্যায়ে গিয়া মিটার রিডিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন পড়িবে না। অবশ্য যতদিন এই পদ্ধতি বলবৎ রহিয়াছে ততদিন নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনের বিকল্প নাই।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ৬:৩০ পিএম | শুক্রবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।