বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   270 বার পঠিত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ

অন্যের ওপর দায় চাপানোর এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে আমাদের। অনেকে অন্যের দায়িত্বজ্ঞানের ব্যাপারে অতীব সচেতন হলেও নিজের ক্ষেত্রে উদাসীন। আমরা পান থেকে চুন খসলেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশকে অবচেতন মনে দোষারোপ করি! এটা অবশ্য একেবারে অমূলক নয়। বাংলাদেশে দলবদ্ধ সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে; পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা বা কলহ দিন দিন বেড়ে চলেছে, যেটা সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। প্রশ্ন আসছে, সামগ্রিক এই অবস্থার জন্য আসলে দায়ী কে? স্বাভাবিকভাবেই আইন ব্যবস্থার অন্যতম স্টেকহোল্ডার হিসেবে প্রাথমিক দায়দায়িত্ব বর্তায় বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। কিন্তু পুলিশের একার পক্ষে কি দেশজুড়ে পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব?

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা মুখ্য হলেও সমাজ এবং সমাজের মানুষের মানসিকতা, আচরণবিধি ও কর্তব্যবোধের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সাধারণত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বা অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকাকেই শতভাগ গুরুত্ব দিতে দেখা যায়। দ্বিতীয় বিষয়ের ওপর কারও নজর খুব একটা থাকে না। যেমন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নাগরিক রাস্তা পার হওয়ার সময় ফুট ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেন না। সড়ক দিয়ে হাঁটলে ট্রাফিক আইন অমান্যের অভিযোগে শাস্তি বা জরিমানা করলে দোষ হয় পুলিশের! পথচারী বা গাড়ির চালক যদি নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে কিন্তু সড়কে দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমে যেত। রেলের সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

ইট-পাথর-কংক্রিটের শহুরে সমাজের পারস্পরিক বন্ধন কেমন জানি ‘প্রফেশনাল’ ও স্বার্থপর! পাশের ফ্ল্যাটে চুরি হলে বা ডাকাত পড়লে অনেক শহুরে মানুষ নীরব থাকতে পছন্দ করেন, যদি বিপদ নিজের দিকে আসে! এমনকি প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে কেউ ছিনতাইয়ের কবল পড়লে আশপাশের লোকজনকে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। দিন-দুপুরে কেউ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেও শহরের বাসিন্দারা না দেখার ভান করেন। রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। তার চেয়ে বরং মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে পছন্দ করেন কেউ কেউ! অবশ্য গ্রামীণ সমাজে তুলনামূলক প্রতিবেশীসুলভ আচরণ একটু বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে ওখানে গ্রাম্য রাজনীতি তথা ভিলেজ পলিটিকসের মতো সামাজিক ভাইরাস সমাজের সব পজিটিভ অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে! সব মিলিয়ে প্রতিবেশী হিসেবে নাগরিক দায়িত্ব পালন অত্যন্ত জরুরি, যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গণসচেতনতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপরাধ রোধ করা যায়। যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা হতে পারে গৌণ বিষয় মাত্র!

তবে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অপতথ্য ও গুজবও সমানতালে বেড়েছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই নাগরিকদের মিথ্যা বা বানোয়াট খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে দেখা যায়। যেমন কোথাও অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দেখবেন এক দল লোক উদ্ধারকাজে সহায়তার পরিবর্তে মোবাইল ফোন হাতে ভিডিও করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে গেলে উল্টো পুলিশকে দোষারোপ করে; হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রচার করে নিজেদের দর্শক বাড়ায়। ফলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা যদি সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করি তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা অনুকূলে থাকবে।

ঘনবসতির এই দেশে মোট জনসংখ্যার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য খুবই অপ্রতুল। তথ্যসূত্রমতে, প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে পুলিশ সদস্য মাত্র একজন! ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অপরাধীদের ধরবে বা পরিস্থিতি সামাল দেবে, এমনটা নাও হতে পারে! জনবলের সংকটসহ উন্নত প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা তো আছেই। তাহলে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয় কী? মোটাদাগে স্ব স্ব জায়গা থেকে দায়িত্ববোধের টানে এগিয়ে এসে সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা। সঠিক তথ্য প্রচার করা। অপরাধ ও অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া। শহুরে পরিবেশে একে অপরে বিপদে সহায়তার হাত বাড়ানো। গ্রামের বিষাক্ত রাজনীতির মূলোৎপাটন করা। আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করা। ভালো প্রতিবেশী হয়ে ওঠা। সর্বোপরি কমিউনিটি পুলিশিংয়ে দেশের সচেতন মহলের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে সমাজে বিদ্যমান অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস করা যায়।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৩৮ পিএম | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মোদির নতুন চাল
(344 বার পঠিত)
না ভোটের অধিকার
(340 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।