জাতীয় ডেস্ক | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 7 বার পঠিত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কফি বিক্রি করেন সজীব। বর্ষাকাল পর্যটন মৌসুম না হলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তাঁর কাছ থেকে কফি ভালোই বিক্রি হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সারাদিন বৃষ্টির কারণে কোনো পর্যটকই সৈকতে নামছেন না। এ কারণে তেমন বিক্রি হয়নি সজীবের। সকাল থেকে হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে কফি বিক্রি করেছেন এ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।
সজীবের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিরা। টানা চার দিন ধরে চলা বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে তাদের সবার আয় একেবারেই কমে গেছে। একই রকম বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রিসোর্টের মালিকেরা। তাদের ভাষ্য, শত শত কক্ষ বুকিং দিয়েও বাতিল করেছেন পর্যটকেরা। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
কুয়াকাটার হোটেল সি প্যালেসটি সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায়। যে কারণে সাপ্তাহিক ছুটিতে শতভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং পান। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বলেন, গতকাল তাদের তিনটি কক্ষের বুকিং বাতিল হয়েছে। খুলনা থেকে নিয়মিত তাদের হোটেলে উঠতেন একদল পর্যটক। তারা সকালে ফোনে বুকিং বাতিল করেছেন। মাদারীপুর থেকে আসার কথা ছিল আরেকদল পর্যটকের। তারাও দুটি কক্ষের বুকিং বাতিল করেছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরও বুকিং বাতিলের আশঙ্কা করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। যারা কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছেন, তাদের বেশির ভাগই অধিকাংশ সময় হোটেল কক্ষেই কাটিয়েছেন। এ জন্য অটোরিকশা চালক, ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, সৈকত-সংলগ্ন দোকানদার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। দৈনিক আয় নিয়ে তাদের যত দুশ্চিন্তা।
কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ২২০টি। এসব প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক কক্ষ সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। বর্তমান অবস্থায় হোটেল-মোটেলগুলোর কক্ষে পর্যটকের হার মাত্র ১০-১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ তথ্য দেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ। তিনি বলেন, অনেক পর্যটক কক্ষ বুকিং দিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং বাতিল করেছেন। এতে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, যানবাহন চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সৈকতকেন্দ্রিক অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও কর্মহীন সময় পার করছেন। এখন সবাই আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন।
সারাদিন ভারী বর্ষণ
বৃহস্পতিবার একই চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টেও। সারাদিন এ নগরীতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে অবিরাম। ফলে যে পর্যটকেরা এসেছেন, তারাও বেশিক্ষণ সৈকতে থাকেননি। দ্রুত সময়েই হোটেলের কক্ষে চলে যান। অধিকাংশ দোকানপাট ছিল বন্ধ। যেগুলো খোলা ছিল, সেগুলোতেও ক্রেতার দেখা মেলেনি। ঝালমুড়ি, চটপটি, কিটকট, বিচ বাইক ও ঘোড়ার ব্যবসাসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর কর্মকাণ্ড এদিন স্থবির দেখা গেছে।
লাবণী পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আবিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে হোটেল থেকে বের হতে পারছিলেন না। তবু পরিবারের সদস্যদের পীড়াপীড়িতে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফাঁকা সৈকতে এসেছেন।
সৈকতের কিটকট (চেয়ার-ছাতা) সারাদিনই ফাঁকা পড়ে থাকছে বলে জানান কিটকট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ থাকছেন না। দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ব্যবসাও একেবারেই নেই।
বিচে বাইক চালিয়ে সংসার চালাতে হয় হাফিজ উদ্দিনকে। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক আসছেন না। তিনদিন পর তিনি গতকাল সৈকতে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো আয় হয়নি।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে কক্সবাজারে বাসে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক নগরীতে অবস্থান করছেন। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারাও নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটক আসা কমে গেছে জানিয়ে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে বড় ধস নেমেছে। গত চার দিনেই জেলার পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
Posted ৭:০২ পিএম | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।