জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 73 বার পঠিত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তৃতীয় পক্ষের চাপে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হবে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সমর্থন জানিয়ে চীন আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
রোববার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর চীনের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।
তিনি জানান, নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জন্য বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশি এবং সমন্বিত, কৌশলগত ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে চীন দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সুশাসন নিশ্চিতে চীনের সমর্থন থাকবে।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে তাঁর মা খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তা আরো জোরালো হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সেই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে চীন প্রস্তুত। দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সংহতি, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিও চীনের সমর্থন রয়েছে। ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির প্রতি চীনের সমর্থন রয়েছে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সব খাতে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তৈরি আছে চীন। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত।
নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের অগ্রাধিকার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। নতুন সরকার জনগণের জন্য কী উদ্যোগ নিতে চায়, সেটিও আমরা দেখতে চাই। তারেক রহমান যে নতুন নীতির কথা বলেছেন, তার লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভরশীল, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বিশেষভাবে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে চীন একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ক্ষেত্রে চীন সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা পুরোপুরি জনগণের স্বার্থে। এ কারণে এতে জনগণের সমর্থন রয়েছে। আমাদের সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এটা বিদেশি কোনো পক্ষের ওপর প্রভাব ফেলবে না। যারা বাংলাদেশে আমাদের সহযোগিতাকে ক্ষুন্ন করতে চায়, তাদের অপপ্রয়াস ব্যর্থ হবে।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলমান। এটি শিগগির শুরু হবে- এটি আমার প্রত্যাশা। বৈঠকে তিস্তা নদীসহ অন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীল, সুরক্ষিত ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির প্রতি চীনের দৃঢ় সমর্থন জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য চীনা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে এগিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেন। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত ওয়েন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খলিলুর রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
Posted ৫:৪৮ পিএম | রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।