নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 117 বার পঠিত
সরকারের বিল পাস হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় (নির্বাচনে এককভাবে ১৯৩ আসনে বিজয়ী হয়) অর্জন করে পুনরায় সরকার গঠন করে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিএনপি সরকারের বিচারপতির বয়স বাড়ানোর উদ্যোগকে আওয়ামী লীগ সন্দেহের চোখে দেখে। তারা আবার হরতালসহ লাগাতার কর্মসূচি শুরু করে। দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং দুই নেত্রীকে কারাগারে পাঠায়। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠন করা হয়। এ সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০ আসনে বিজয়ী হয়ে ১৯৯৬-এর পর পুনরায় সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষক আলী রীয়াজ তার ‘ইতিহাসের দোলাচল’ বইয়ে (২০২৩ সালের জুলাইয়ের প্রকাশিত) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংশোধিত সংবিধানের আওতায় নির্বাচন ব্যবস্থা এমনরূপ লাভ করেছে, যেখানে অস্বচ্ছ নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রক্ষাকবচ নেই, নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছার অধীন হয়ে পড়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন তার প্রমাণ। আধা কর্তৃত্ববাদী শাসন ক্রমান্বয়ে একচেটিয়া আধিপত্যশীল কর্তৃত্ববাদে রূপান্তরিত হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে তুলনামূলক সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছে যে ব্যবস্থা—তত্ত্বাবধায়ক সরকার—তার অবসান ঘটানো হয়েছে।’ অধ্যাপক রেহমান সোবহান সুস্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়নি। সংসদও অকার্যকর, যেখানে কারও জবাবদিহিতার ব্যাপার নেই।’
শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে ২০২৪-এর আগস্ট পর্যন্ত তার এ মেয়াদে হত্যা, গুম, বিরোধী দলকে দমন, লাগামহীন দুর্নীতি, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে এক ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেন। নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসনযন্ত্রসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের দীর্ঘ আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে রক্তে ভেজা ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। হেলিকপ্টারে করে তার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ছবি রাজনৈতিক দলগুলোকে ইতিহাসের মুখোমুখি করবে, এমনটা ভাবা বেঠিক কিছু হবে না।
বহুল উচ্চারিত সেই বাণী ‘ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না’—এবার কি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ গ্রহণ করা হবে? গত ৫৪ বছর বাংলাদেশের রাজনীতি যেমন গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, তেমনি রাজনীতিতে কোনো দর্শন সৃষ্টি করা যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে হোক অথবা যে কোনো উপায়ে হোক, ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা ভোগ করা, সম্পদ গড়া—এটাই যেন রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য। ইতিহাসের দায়মুক্তির যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সে সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলো গ্রহণ করে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
Posted ১২:২৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।