জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 65 বার পঠিত

নির্বাচন মাইলফলক অর্জন, শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। তবে জবাবদিহির সংকট রয়ে গেছে। এমনটা জানিয়েছেন পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের (এএনএফআরইএল) চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি।
গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এএনএফআরইএল।
সংবাদ সম্মেলনে রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। গত ১৫ বছর পর যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ছিল, এর প্রতিফলন ঘটেছে ভোটার উপস্থিতিতে। প্রতিটি নির্বাচনী আসনে যথেষ্ট সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডিক্যাম ছিল। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিং ব্যবহার হয়েছে।
তবে রোহানা হেতিয়ারাসসি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ৪ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণে। তিনি বলেন, কোনো কোনো দল একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন সরকারের দায়িত্ব জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটের ফলাফল দ্রুত দেওয়া একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ভোট দেওয়ার ভালো ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি আস্থার জন্য শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অন্তর্ভুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব রেখেছে। গণভোটের ফলাফল সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
এএনএফআরইএলের অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভোটের দিনের অর্জিত আস্থা টেকসই হবে তখনই, যখন নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয় একটি পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর গণপর্যবেক্ষণ তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে এএনএফআরইএল যে এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছে, সেখানে ভোটের দিন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। এটি ছিল নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ফল। এতে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব উদ্যোগ ভোট গ্রহণ কার্যক্রমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।
একই সঙ্গে মিশনের অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষণে একটি স্থায়ী সংকট চিহ্নিত হয়েছে, যা সুশৃঙ্খল ভোট গ্রহণের আড়ালে বিদ্যমান। তা হলো, নির্বাচনী জবাবদিহিতা। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে, অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তি কার্যকর হবে, এমন আস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত অর্থের প্রভাব ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে। আলোচকরা বারবার উচ্চ ব্যয় ও অনানুষ্ঠানিক অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিবেদনে প্রার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রমাণ, এমনকি প্রচারকাল শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। পোস্টার ও ত্রিপল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রয়োগ নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
Posted ২:০৭ পিএম | সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।