| সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | 95 বার পঠিত

কেন্দ্রে ‘পছন্দের বিরোধী’ চায় বিজেপি। সেই জন্য তারা রাহুল গান্ধীকে ‘বিরোধী মুখ’ বানাতে চায়। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি যখন জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, সেই উদ্যোগে জল ঢেলে দিতে গেরুয়া শিবিরের এই কৌশল। এমনটাই মনে করছেন বিজেপি বিরোধিতায় দেশের অন্যতম মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমি দিল্লিতে তোমাদের (কংগ্রেস) সঙ্গে দোস্তি করব, আর এখানে তোমরা বিজেপির সঙ্গে মস্তি করবে, এটা হবে না। রাহুল গান্ধীকে নেতা বানানোর জন্যই বিজেপি সংসদ চালাতে দিচ্ছে না। উনি হলেন নরেন্দ্র মোদির সবথেকে বড় টিআরপি। রাহুলকে নেতা বানালে বিজেপির লাভ। এভাবেই অন্য বিরোধীদের দুর্বল করে দেওয়া যাবে।’ ঘটনাচক্রে এদিনই রাহুল গান্ধীর বাড়িতে যায় দিল্লি পুলিস। তাছাড়া গত কয়েকদিন ধরে গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় আক্রমণের বর্ষামুখে রয়েছেন সোনিয়া-তনয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, এভাবে রাহুলকে জনমানসে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। কারণ, তিনি বিরোধী মুখ হলে ক্ষমতা পুনর্দখলের ব্যাপারে বিজেপি অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকবে। আর বিরোধী হিসেবে রাহুল গান্ধী প্রচারের যাবতীয় আলো শুসে নিলে ধাক্কা খাবে আঞ্চলিক দলগুলির জোটবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টাও।
মমতা যখন এই মন্তব্য করছেন, তার কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতায় বসেই কংগ্রেসের সমালোচনায় সুর চড়িয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব। কংগ্রেস ও বামশক্তিকে দূরে রেখেই বিজেপি বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। মোদি সরকারের ‘এজেন্সিরাজ’ ও বিরোধী কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার প্রশ্নে গত ক’দিনে বারবার মিলে গিয়েছে মমতা ও অখিলেশের মত। এই উদ্যোগকে শুরুতেই গুলিয়ে দিতে বিজেপি রাহুল ও কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে মুর্শিদাবাদের নেতাদের বৈঠকে মমতা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই বিজেপির কাছে মাথা নত করবেন না তিনি।
সম্প্রতি সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের পর উজ্জীবিত কংগ্রেস শিবির। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট, এই জয়ের পিছনে রয়েছে ‘রামধনু জোট’-এর কেরামতি। মমতার কথায় সেই বার্তা আরও স্পষ্ট হল বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাগরদিঘিতে অনৈতিক লড়াই হয়েছে। মুর্শিদাবাদের একজন কংগ্রেসের নেতা বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু তিনি হচ্ছেন বিজেপির এক নম্বর লোক। আরএসএস আর সিপিএমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এসব করছেন অধীর চৌধুরী। পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’ জবাবে অধীরবাবু বলেন, ‘তৃণমূলকে নিয়ে মানুষের মোহভঙ্গ হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ওরা অনুপ্রবেশকারী।’
প্রসঙ্গত, এদিন বহরমপুরে তৃণমূল জেলা কার্যালয়ে হাজির ছিলেন মুর্শিদাবাদের নেতারা। তাঁদের সঙ্গে টেলিফোনেই এই বৈঠক সারেন তৃণমূল নেত্রী। খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান ও জাকির হুসেনকে বাড়তি সাংগঠনিক দায়িত্ব ভাগ করে দেন। শীঘ্রই তিনি মুর্শিদাবাদে গিয়ে সভা করবেন বলেও জানান মমতা। -ফাইল চিত্র
Posted ১:৪৬ এএম | সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩
| admin
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।